বিজয়ের ৪৪ বছর; বৈষয়িক উন্নতি ও বৈষম্যের ইতিহাস

সম্পাদকীয়: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
independence-day-2015

আজ ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয়ের দিন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।

আজ বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসার সাথে স্মরণ করছি সেইসব অপামর নারী-পুরুষ-বৃদ্ধ-শিশু, যাদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ বিজয়, স্মরণ করছি সেই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের শৌর্য-সাহসিকতার কাছে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয় তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর, শক্তিশালী সেনাবাহিনীর দল।

কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছরে এ মহান বিজয়, এ বিজয়ের চেতনাকে আমরা কতুটুকু নিজেদের ভেতরে ধারণ করতে পেরেছি? অর্জিত বিজয়ে রাষ্ট্র বদলেছে, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের যে কাঠামো তাতো বদলায়নি। বদলায়নি তার আইন-কানুনের ধাঁচ, বাহিনী-বিশেষ বাহিনীর ভূমিকা, আমলাতন্ত্র, সমস্ত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্পর্ক।

রাষ্ট্রের উৎপাদন বাড়ছে, বিতরণ বাড়ছে না। বাহ্যিক উন্নতি দেখতে পাচ্ছি কিন্তু বাড়ছে বৈষম্য। দেশের মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে কুক্ষিগত হচ্ছে জনগণের সম্পদ। একাত্তর পরবর্তীকালীন সময় থেকে যে ইতিহাস তা কেবল বৈষয়িক উন্নতির ইতিহাস, নৈতিকভাবে এ ইতিহাস অবনতির ইতিহাস, আর তার লক্ষণ হলো সহিংসতা। পরাধীন অবস্থায় ভিন দেশের মানুষের সহিংসতা আর আজ স্বাধীন দেশে একই ভাষাভাষী, একই জাতীয়তার মানুষের সহিংসতা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যে সমাজ বিপ্লবের চেতনা, রাষ্ট্র কাঠামোর যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চেতনা– তা থেকে আমরা ক্রমশই আরও দূরে সরে যাচ্ছি। রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার-সুযোগের যে সাম্যের চেতনা, সকল ধরণের বৈষম্যহীনতার যে চেতনা, তা আর আমরা ধারণ করতে পারছি না। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে আর সময়ক্ষেপণ চলে না, দ্রুত উঠে আসতে হবে এ তলিয়ে যাওয়া থেকে। পারবো আমরা... একাত্তরে একবার পেরেছি, এবারও পারবো আমরা।