আমরা কোথায় থাকি?

দর্শন ও বিজ্ঞান: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
amrakothaythaki_pc

অনিম আরাফাত

আমাদের মহাবিশ্ব কত বিশাল সেটা নিয়ে অনেকের হয়ত প্রচুর আগ্রহ আবার কারো হয়ত একেবারেই নেই। তবে প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ সেটা জানতে চেয়েছে আর যত জেনেছে তত অবাক হয়েছে। এর বিশালতা অবিশ্বাস্য, কল্পনা করার জন্যে অনেক বড় এই মহাবিশ্ব। আর আছে এর নানান উপাদান যেগুলোর তুলনায় আমাদের শহর বা পৃথিবী আরো অনেক অনেক ছোটো। আমরা যদি এই মহাবিশ্বকে কল্পনা করতে চাইতো আমাদেরকে প্রথমে জানতে হবে আমরা আসলে কত ছোটো! পৃথিবীর সাথে অন্যদের তুলনা করলেই সেটা বুঝা যাবে, সাথে ধারনা পাওয়া যাবে মহাবিশ্বের বিশালতা সম্পর্কেও।

সূর্য্যের তৃতীয় গ্রহ আমাদের প্রিয় পৃথিবী। এর একেকটা শহর থেকে আরেকটা শহর, এক দেশ থেকে আরেক দেশ কত দূরের লাগে। অথচ এই সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি আমাদের পৃথিবী থেকে ১৩০০ গুন বড়। ইশ পৃথিবী যদি বৃহস্পতির সমান হত তাহলে বাঙলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব হত বর্গকিলোমিটার প্রতি একজন মাত্র। পৃথিবীর ব্যাস ১২৭১০ কি.মি আর বৃহস্পতির ব্যাস ১,৪২,৯৮০ কি.মি প্রায় (শনি গ্রহের ব্যাস ১২০,৫৩৬ কি.মি. প্রায়)। কত বড় বড় গ্রহ ভাবা যায়! কিন্তু সূর্য্যের কাছে এই বৃহস্পতি গ্রহটা মার্বেলের মত ; সেক্ষেত্রে সূর্য্যের আকৃতিটা হবে একটা ফুটবলের সমান। সূর্যদেবের ব্যাসটা বিশাল, প্রায় ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে দেখতে পাওয়া আকাশের উজ্জ্বলতম বস্তু হলো আমাদের সূর্যিমামা। কিন্তু অন্যান্য নক্ষত্রদের তুলনায় আমাদের সূর্য কিন্তু বেশ ছোটো।

সূর্যের থেকেও বড়! সেটা কত বড় তাহলে!! অন্য কিছু নক্ষত্রের ব্যাসের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে সূর্য আসলে ছোটো একটা নক্ষত্র। যেমন, সিরিয়াসের কথাই ধরা যাক, এর ব্যাস প্রায়, ২৩৮০০০০ কি.মি.। আমাদের থেকে ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্র রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। সিরিয়াস ক্রমশই আমাদের কাছে আসছে ; এ কারণে আগামী ৬০,০০০ বছরে এর উজ্জ্বলতা আরো বেড়েই চলবে। এরপরে আশা যাক পলুক্সের কাছে। এটা মিথুন রাশিমন্ডলে থাকা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র যার ব্যাস হচ্ছে প্রায় ১২ লক্ষ ২৪১ হাজার কিলোমিটার প্রায়।


রাতের আকাশের তৃতীয় উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম আর্কটুরুচ। লিব্রা ও স্করপিয়ন্সের মাঝে আছে এই নক্ষত্রটি যার ব্যাস হচ্ছে ৩৫ লাখ ৭৫১ হাজার কিলোমিটার প্রায়। এটা একটা অরেঞ্জ জায়ান্ট নক্ষত্র যার সাথে আমাদের সূর্যকে তুলনা করা মানে হচ্ছে একটা ফুটবলের সাথে শর্ষে দানার তুলনা করা।

কিন্তু এ তো ক্যাবল বৃহৎ নক্ষত্রের শুরু, এরপরে আসবে সুপার জায়ান্ট গুলো। এই সুপারজায়ান্ট নক্ষত্রগুলো নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করবোনি, এখন আপাতত এদের আকৃতিতেই থাকি।
প্রথমেই যে সুপার জায়ান্টের কথা আসে সেটা হচ্ছে অরিয়নের রিগেল। এটা অরিয়নের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এবং রাতের আকাশে থাকা উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের তালিকায় এর অবস্থান সপ্তম। ওই ব্লু সুপারজায়ান্ট এর ব্যাস হচ্ছে ১০৩,০০০,০০০ কি.মি.। কেউ ধাক্কা খাবেন না এখুনি, সামনে আরো আসছে অনেককিছু। আমাদের থেকে ৬৪৩ আলোকবর্ষ দূরে কালপুরুষের বেটেলগজ হচ্ছে একটা সুপার রেড জায়ান্ট নক্ষত্র। এর ব্যাস হচ্ছে ৮৬০,০০০,০০০ কিলোমিটার প্রায়।


বৃশ্চিক রাশির মূল তারাটার নাম আন্টারেস। এটাও একটা রেড সুপারজায়ান্ট যেটা আমাদের থেকে প্রায় ৫৫০ আলোকবর্ষ দূরে আছে। আকাশে জায়গাদখলে মঙ্গলের এই প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যাস হচ্ছে ১,১০৮,০০০,০০০ কি.মি.। এরকম অগণিত সুপারজায়ান্ট নক্ষত্র রয়েছে মহাবিশ্বে। যাদের এক একটা আকার কল্পনাও করা যায় না। এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটি হচ্ছে VY Canis Majoris। এটার ব্যাস হচ্ছে, ২,৯২১,০০০,০০০ কিলোমিটার। যেটার ব্যাস এত বড় সেটার আকৃতি কিরকম হবে কল্পনা করা কঠিন। এর কাছে সূর্য একটা সুইয়ের মাথার থেকেও ছোটো হবে এবং দেখাই যাবে না।

আমরা আসলে কত ছোটো সেটা কিছুটা বুঝা যাচ্ছে।এতক্ষণ শুধু তারা আর গ্রহ নিয়েই বললাম। মহাবিশ্বে রয়েছে আরো বিস্ময়কর অনেক কিছু, যেখানে হয়ত রহস্যেঘেরা অনাবিষ্কৃতদের সংখ্যাও অনেক। মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই ভেবে আসছে এই জগৎ সম্পর্কে, এখনো ভেবেই যাচ্ছে। কৌতূহল ও জানার আগ্রহ মানুষের কাছে ক্রমশই স্পষ্ট করছে মহাবিশ্বের চিত্র।